
পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-তে সম্প্রতি শিক্ষক সংগঠন ‘গ্রিন ফোরাম’–এর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ সময় পর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের এমন প্রকাশ্য কমিটি সামনে আসায় বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত কমিটিতে প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদকে সভাপতি এবং প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মাসুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে নতুন এই কমিটি প্রকাশের পর শিক্ষক মহলে একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কমিটির সদস্য তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে এমন কয়েকজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাদের অতীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মো. নাঈমুর রহমান, মো. মোমিন উদ্দীন, মো. আশিক এবং মো. শাহীন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. নুর নবী এবং মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রাথমিক সদস্য হিসেবেও ক্যাম্পাসে আলোচিত ছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন তারা কি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন, নাকি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে? পাশাপাশি একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠনে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনকে নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে ‘গ্রিন ফোরাম’ নিজেদের আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে আরও জানা যায়, কমিটির অনেক সদস্য এখনও বর্তমান প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন এবং নিজেদের সাদাদল ও বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও পরিচয় দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পবিপ্রবির নতুন এই কমিটি শুধু একটি সাংগঠনিক ঘোষণা নয়; এটি ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতিতে আদর্শ, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।




