সারাদেশ

বাবুগঞ্জে বৈধ জমি দলিল নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি


বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় একটি বৈধ জমি দলিলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আব্দুল হালিম হাওলাদার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির মানহানি ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ৫ শতাংশ জমির একটি দলিল সম্পন্ন হয় (দলিল নম্বর–২৫৭১/২৫)। দলিল সম্পাদনের পর সাংবাদিক রুবেল সরদার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি সংবাদ পোস্ট করেন। ওই পোস্টে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই দাবি করা হয়, ৯০ বছর বয়সী সেতারা বেগমকে ভয়ভীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে তার বড় ছেলে আব্দুল হালিম হাওলাদার জমি লিখে নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হালিম হাওলাদার বলেন,
“এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে এবং স্বেচ্ছায় আমাকে ৫ শতাংশ জমি দলিল করে দিয়েছেন। এখানে কোনো ধরনের জোরপূর্বকতা, ভয়ভীতি কিংবা প্রতারণার ঘটনা ঘটেনি।”
সংবাদে উদ্ধৃত বক্তব্য নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছেন সেতারা বেগমের বড় মেয়ে নাসরিন আক্তার। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,


“আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিইনি। আমার অনুমতি ছাড়া আমার নাম ও বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার মায়ের জমি তিনি যাকে ইচ্ছা দিতে পারেন। আব্দুল হালিমকে দিলে সেটি মায়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সংবাদে আমার নামে যেসব কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানানো।”
সেতারা বেগমের অপর দুই মেয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারাও জানান, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তারা কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
এদিকে সংবাদে দলিলের দ্বিতীয় পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখিত আসমা বেগম বলেন, দলিল রেজিস্ট্রির দিন তিনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দলিলে থাকা স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি তারই—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিষয়টি তদন্ত করে বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সংশ্লিষ্ট সংবাদে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংবাদটি প্রচারে জড়িত হাফিজুর রহমান ও আব্দুর রহিম ওই নির্দেশ অমান্য করেন। এমনকি আব্দুর রহিম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পুনরায় ওই বিভ্রান্তিকর সংবাদ শেয়ার করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম হাওলাদার জানান, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাসরিন আক্তারের কথা উল্লেখ করে মিথ্যা সংবাদ প্রচার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button