সারাদেশ

নরসিংদীতে কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪

নরসিংদীতে কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মাধবদী থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ জনের নামে মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

নিহতের পরিবারের দাবি, কিশোরীর সঙ্গে স্থানীয় যুবক নুরুল ইসলাম ওরফে নুরার প্রায় চার মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে নুরা তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে প্রায় ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল স্থানীয় কাপড়ের কারখানা থেকে ফেরার পথে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আহমেদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করা হয় বলে দাবি পরিবারটির।

নিহত কিশোরীর বাবার অভিযোগ, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে নিয়ে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকা থেকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তাঁর মেয়েকে পথে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাতে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানান।

পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একই এলাকার একটি সরিষাখেতে মেয়েটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে নুরার সম্পর্ক ছিল। নুরাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। ১৫ দিন আগে নুরা ও তার সহযোগীরা আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এর পর থেকে তারা হুমকি দিচ্ছিল। গতকাল রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে পাঠাতে গেলে রাস্তা থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। সকালে লাশ পাওয়া গেছে। আমি মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’

মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আহমেদ বলেন, ‘গতকাল রাতে ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আমি বাসায় ছিলাম না। এখন যেহেতু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button